Uncategorized

‘গোল্ডেন মনির’ স্বর্ণ ব্যবসায়ী নন : বাজুস

নিজস্ব প্রতিবেদক : অবৈধ অস্ত্র ও মাদকসহ র্যাবের হাতে ধরা পড়া রাজধানীর মেরুল বাড্ডার গাড়ি ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী মনির হোসেন ওরফে ‘গোল্ডেন মনির’ স্বর্ণ ব্যবসায়ী নন বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

শনিবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো বাজুস সভাপতি এনামুল হক খান ও সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা স্বাক্ষর করা এক বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে জনৈক মনিরুল ইসলাম ওরফে গোল্ডেন মনিরকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এতে দেশের সাধারণ স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মান ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তারা। বাজুসের তথ্য মতে, উক্ত মনির স্বর্ণ ব্যবসায়ী নন।

এতে আরও বলা হয়েছে, বাজুসের কোনো সদস্য এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড সমর্থন করেন না। অধিকন্তু, আমরা এ ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ নিধনে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকে সাধুবাদ জানাই। ভবিষ্যতে যদি প্রয়োজন হয় তবে এ ধরনের সকল প্রকার অবৈধ কাজ শক্ত হাতে নিধন করতে আমরা সরকারের পাশে থাকব।

বিবৃতিতে বাংলাদেশের সকল গণমাধ্যমকে মনিরকে ‘স্বর্ণ ব্যবসায়ী’ হিসেবে আখ্যায়িত না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

অবৈধ অস্ত্র ও মাদকসহ গোল্ডেন মনিরকে গ্রেফতারের পর শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে র্যাব সদর দফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ অবৈধপথে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছেন ‘গোল্ডেন মনির’। আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে তার স্বর্ণ চোরাকারবারের রুট ছিল ঢাকা-সিঙ্গাপুর-ভারত। এর সবই তিনি করেছেন ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে। যেখানে তার নাম হয়ে যায় ‘গোল্ডেন মনির’।

অভিযান সম্পর্কে আশিক বিল্লাহ বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব ৩-এর একটি দল শুক্রবার (২০ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১১টায় মেরুল বাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকায় অবস্থান নেয়। অভিযানের মূল কারণ ছিল অবৈধ অস্ত্র ও মাদক। মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরকে গ্রেফতারের পর তার হেফাজত থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, কয়েক রাউন্ড গুলি, বিদেশি মদ ও প্রায় ৯ লাখ টাকার বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায়। তার বাসা থেকে আট কেজি স্বর্ণ ও নগদ এক কোটি ৯ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

‘গোল্ডেন মনির’ ওরফে মো. মনির হোসেন সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, তিনি মূলত একজন হুন্ডি ব্যবসায়ী, স্বর্ণ চোরাকারবারি এবং ভূমির দালাল। তার একটি অটোকার সিলেকশন শোরুম আছে। পাশাপাশি রাজধানীর গাউছিয়ায় একটি স্বর্ণের দোকানের সাথে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। আমরা তার বাসা থেকে অনুমোদনবিহীন বিলাসবহুল দুটি বিদেশি গাড়ি জব্দ করেছি, যার প্রত্যেকটি দাম প্রায় তিন কোটি টাকা। এর পাশাপাশি কার সিলেকশন শোরুম থেকেও আমরা তিনটি বিলাসবহুল অনুমোদনবিহীন গাড়ি জব্দ করেছি।

আশিক বিল্লাহ বলেন, গ্রেফতার মনির নব্বইর দশকে রাজধানীর গাউছিয়ায় একটি কাপড়ের দোকানের কর্মচারী ছিলেন। সেটা ছেড়ে তিনি ক্রোকারিজের ব্যবসা শুরু করেন। এরপর লাগেজ ব্যবসা অর্থাৎ ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে তিনি বিভিন্ন মালামাল দেশে আনতেন। একপর্যায়ে তিনি স্বর্ণ চোরাকারবারিতে জড়িয়ে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ অবৈধপথে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে আনেন। তার নাম হয়ে যায় ‘গোল্ডেন মনির’। স্বর্ণ চোরাকারবারে জড়ানোয় ২০০৭ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়।

আরো দেখুন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button
Close