ঢাকাসারাদেশ

কালিয়াকৈরে বংশী নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ

নিজস্ব প্রতিবেদক : নদী কোন ব্যক্তিমালিকের হয় না। নদীর মালিক জনসাধারণ। নদীর পানি ও মাছের ওপর কোনো ব্যক্তি, সংঘ, সংস্থা বা দলের একচ্ছত্র অধিকার নেই। কিন্তু গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঐতিহ্যবাহী বংশী নদীর একচ্ছত্র অধিকার কায়েম করছেন ৬নং সূত্রাপুর ইউনিয়নের উত্তর হিজলতলী গ্রামের মো. চাঁন মিয়া মন্ডলের ছেলে মো. এবাদত হোসেন মন্ডল (৫২)। যিনি কালিয়াকৈর উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি এবং গাজীপুর জেলা যুবদলের ১নং সদস্য। তিনি বংশী নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছেন এবং এমন আদেশ জারি করেছেন যে নদীর ওই অংশে কেউ নামতে পারবে না। অর্থাৎ বংশী নদীর ওই অংশটিকে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তি ধরে নিচ্ছেন। প্রাকৃতিক স্রোতস্বিনীটির স্বাভাবিক পানি প্রবাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করে সেটির ক্ষতিসাধন করছেন এবং এলাকার অন্য বাসিন্দাদের সেটির দান থেকে বঞ্চিত করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঐতিহ্যবাহী বংশী নদী কারো ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। এখানে মৎস্যজীবীদের পাশাপাশি এলাকার সবাই মাছ ধরবে ও পানি ব্যবহার করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু উত্তর হিজলতলী গ্রামের এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতা মো. এবাদত হোসেন মন্ডল ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নদী দখল এবং দুই পাশে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছেন। তার দাপটে নদীতে কেউ নামতে পারছে না। দুইপাশে বাঁধের কারণে পানি আটকে থাকায় কচুরিপানাসহ বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনা জমে পঁচে দূষিত হচ্ছে নদীর পানি এবং মাছের খাবার হিসেবে মাঝে মধ্যে নদীতে মরা কুকুর, বিড়াল ফেলা হয় ফলে এর দুর্গন্ধে নদীর পারের বাসিন্দাদের নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ভয় বিরাজ করছে জনসাধারণের মনে। তাই সচেতন মহল্লা ও এলাকাবাসীদের দাবী উপজেলা প্রশাসনের কাছে এই বংশী নদী দখল মুক্ত করে এবং নদীর ওই অংশটির বাঁধ অবিলম্বে সরিয়ে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হোক।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আদনান চৌধুরী জানান, উন্মুক্ত জলাশয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে মাছ চাষের কোন অনুমতি নেই। নদী উন্মুক্ত থাকবে। এখানে সকলে মিলে মাছ ধরা ও চাষ করতে পারেন। বিষয়টি মৎস্য কর্মকর্তার মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরো দেখুন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close